Priyo24.Com

Place of somethings Knowing

ইবাদাত কবুলের পূর্ব শর্ত হালাল উপার্জন!!!

হে মানব ম-লী, পৃথিবীর হালাল ওপবিত্র বস্তুসামগ্রী ভক্ষণ কর। আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কর না।নিঃসন্দেহে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। (আলবাকারা-১৬৮)ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান। ইসলামে শরীয়তের সকল বিধান নিহিত রয়েছে। ইসলামী শরিয়তের অন্যতম বিধান হলো হালাল রুযি-উপার্জন।হালাল রুযি ব্যতীত কোন ইবাদত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না ও আল্লাহ সন্তুষ্ট হবেন না। নি¤েœ এ সম্পর্কিত আলোচনা তুলে ধরা হলো।হালাল রুযির পরিচয় : ইসলামী শরীয়ত যা হারাম করেনি, বরং হালাল ঘোষণা করেছে তা হালাল রুযি হিসেবে গ্রহণযোগ্য। হালাল বা বৈধ উপায়ে রুযি উপার্জন করা প্রতিটি মুসলমানের উপর অপরিহার্য কর্তব্য।কারো জন্য রুযি- উপার্জন করার প্রয়োজনীয়তা না থাকলেও তাকে অবশ্যই হালাল রুযি ভক্ষণ, পরিধান ও ভোগ করতে হবে। কেননা আল্লাহ তায়ালা যেমন নিজে পবিত্র, তেমনি তিনি পবিত্রতা ভিন্ন অন্য কিছু গ্রহণ করেন না। হালাল বা বৈধ হওয়া দু’দিক থেকে হতে পারে।যথা : (ক) শরীয়তে যাকে হালাল ঘোষণা করা হয়েছে অথবা হারাম করা হয়নি। (খ) হালাল বা বৈধ উপায়ে অর্জিত। সম্পদ অর্জনের বৈধ পদ্ধতিসমূহের মধ্যে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত, নিজ জমিতে উৎপাদিত ফসল, বৈধ ব্যবসায়ের মাধ্যমে অর্জিত মুনাফা ও শ্রমের বিনিময়ে অর্জিত অর্থ।কোরআন-হাদিসের আলোকে হালাল রুযি উপার্জন : কোরআনের বহুসংখ্যক আয়াতে আল্লাহ তায়ালা হালাল রুযি উপার্জনের কথা বলেছেন। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন : হে ঈমানদারগণ, আমি তোমাদেরকে যে সকল পবিত্র বস্তু জীবিকারূপে দান করেছি, তা হতে ভক্ষণকর এবং আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর,যদি তোমরা একান্তভাবে তার ইবাদত কর। (আলবাকারা-১৭২)হালাল রুযি উপার্জনের কথা অনেক হাদিসে এসেছে। রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন : আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনÑ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : হালাল উপার্জনের চেষ্টা করা ফরযের পরে ফরয। (বায়হাকী)হালাল উপার্জনের উপায় : শতভাগ হালালউপার্জন নিশ্চিত করার স্বার্থে হারামকে সম্পূর্ণরূপে বর্জন করাসহহারামের ধারে-কাছে না যাওয়া ও সন্দেহপূর্ণ বিষয় পরিহার করে দূরে অবস্থান করা। হারাম বিষয় চাকচিক্যময় হওয়া সত্ত্বেও হাদিসে তাকে সবুজ ঘাসের সাথে তুলনা করা হয়েছে। মানুষের মন যদি দ্বীন ও শরিয়ত মোতাবেক চলার জন্য উদ্বুদ্ধ হয়, তবেই শরীয়তের উপর সুদৃঢ় থাকা সম্ভবপর হয়, অন্যথা নয়। কেননা অন্তকরণ হচ্ছে শরীরের চালক। তাই সকলের উচিত নিজ নিজ অন্তকরণের পরিশুদ্ধি অর্জনে সচেতন হওয়া।হালাল উপার্জনের মাধ্যম : হালাল উপার্জনের বহুবিধ মাধ্যম রয়েছে।তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ দৈহিক শ্রমের বিনিময়ে হালাল কাজ করে তার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের মাধ্যমে হালাল উপার্জন করা। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে চাকরি করে হালাল উপার্জন করা যায়।এছাড়াও পশুপালন, হাঁস-মুরগির খামার প্রতিষ্ঠা, মৎস্য চাষ, বৃক্ষরোপণ, নার্সারি প্রতিষ্ঠা, কুটিরশিল্প, শিল্পকারখানা ইত্যাদিতে কাজ করে হালাল রুযি উপার্জন করা যায়। অবৈধ উপার্জন থেকে বিরত থাকার উপায় : (ক) আল্লাহকে ভয় করা।আল্লাহকে ভয় করাই হলো অবৈধ উপার্জন থেকে বিরত থাকার প্রধান উপায়। যে আল্লাহকে ভয় করবে সে অবৈধ উপার্জন থেকে বিরত থাকতে পারবে। মহান আল্লাহ বলেন : হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় কর, তাকে যেরূপ ভয় করা উচিত। তোমরা মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ কর না। (আল ইমরান- ১০২)(খ) মৃত্যুর কথা স্মরণ করা। মৃত্যুরকথা স্মরণ করার মাধ্যমে অবৈধ উপার্জন থেকে বিরত থাকা যায়। যে মৃত্যুর কথা স্মরণ করবে সে অবৈধ উপার্জন থেকে বিরত থাকতে পারবে। মহান আল্লাহ বলেন : তোমরা যেখানেই থাক না কেন, মৃত্যু তোমাদেরকে পাকড়াও করবেই, যদি তোমরা সুদৃঢ় দুর্গের ভেতরে অবস্থান কর, তবুও। (নিসা- ৭৮) (গ) কোরআন-হাদিসের জ্ঞান অর্জন করা। কোরআন হাদিসের জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের অবশ্যকর্তব্য।রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন : আনাস রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনরাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : প্রত্যেক মুসলিমের জন্য জ্ঞানার্জন করা ফরয। (ইবনে মাজাহ) (ঘ) অতিমাত্রায় সম্পদের লোভ পরিহার করা। অতিমাত্রায় সম্পদের লোভ পরিহার অবৈধ উপার্জন থেকে বিরত থাকার অন্যতম উপায়। (ঙ) লজ্জাশীলতা মেনে চলা। লজ্জাশীলতা ঈমানের অংশ। লজ্জাশীলতা অবৈধ উপার্জন থেকে বিরত থাকার জন্য সহায়ক। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন : আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইকদা জনৈক আনসারীর নিকট দিয়ে গমন করছিলেন। আনসারী সাহাবী তখন তার ভাইকে লজ্জা সম্পর্কে উপদেশ দিচ্ছিলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। কেননা লজ্জা ঈমানের অংশ। (বুখারী ও মুসলিম) (চ) হিংসা-অতৃপ্তি পরিহার করা। হিংসা-অতৃপ্তি পরিহার করতে পারলে অবৈধ উপার্জন থেকে বিরত থাকা যাবে।হালাল উপার্জনের সুফল : (ক) একটি ফরয ইবাদত। হালাল রুযি উপার্জন ফরয ইবাদতের পর একটি ফরয।রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন : আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : হালাল উপার্জনের চেষ্টা করা ফরযের পরে ফরয। (বায়হাকী)(খ) জান্নাতের সুসংবাদ। যে হালাল উপার্জন করবে ও শরীয়তের সঠিক বিধিবিধান মেনে চলবে তার জন্য জান্নাতের সুসংবাদ রয়েছে।রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, : জাবির রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনÑ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : যে গোশত হারাম খাদ্য দ্বারা গঠিত, তা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। হারাম খাদ্যে গঠিত দেহের জন্য জাহান্নামের আগুনই উত্তম। (আহমাদ, বায়হাকী)(গ) ইবাদত কবুল হওয়া। হালাল উপায়ে অর্জিত ও শরীয়ত অনুমোদিত সম্পদ বা খাদ্য গ্রহণ ছাড়া আল্লাহর কাছে কোন ইবাদতই কবুল হবে না।(ঘ) দু’আ কবুল হওয়া। প্রত্যেক মুসলিমনর- নারীর জন্য হালাল রুযি অর্জন করা অবশ্য কর্তব্য। কেননা হালাল সম্পদ বা খাদ্যই হলো দু’আ কবুলের শর্তসমূহের মধ্যে অন্যতম শর্ত। (ঙ) আত্মার সঠিক খাদ্য। হালাল রুযি উপার্জন আত্মার সঠিক খাদ্য যোগাতে সাহায্য করে।মহান আল্লাহ বলেন : জাবির রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : যে গোশত হারাম খাদ্য দ্বারা গঠিত, তা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। হারাম খাদ্যে গঠিত দেহের জন্য জাহান্নামের আগুনই উত্তম। (আহমাদ, বায়হাকী)হালাল রুযি উপার্জনের গুরুত্ব : প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য হালাল রুযি অর্জন করা অবশ্য কর্তব্য। কেননা হালাল সম্পদ বা খাদ্যই হলো ইবাদত কবুলের শর্তসমূহের মধ্যে অন্যতম শর্ত।হালাল উপায়ে অর্জিত ও শরীয়ত অনুমোদিত সম্পদ বা খাদ্য গ্রহণ ছাড়া আল্লাহর কাছে কোন ইবাদতই কবুল হবে না।

177 total views, 1 views today

Updated: January 27, 2017 — 8:23 am

Leave a Reply

Priyo24.Com © 2018 Raihanul Haque