কম্পিউটারে ভাইরাস??? কি কেন এবং কিভাবে ??

প্রায় সবাই ভাইরাস, ট্রোজান হর্স, ওর্ম, রুটকিট, ম্যালওয়ার, স্পাইওয়ার ইত্যাদির কথা শুনে থাকবেন, এগুলোকে এক কথায় ভাইরাস বলে সবাই বুঝে থাকেন। গতকালের ভার্সিটির ক্লাশে এই টপিক নিয়ে স্যার বিস্তারিত আলোচনা করলেন এবং কাল সারা রাত গ্রুপ স্টাডি করলাম বাসায়। যাই হোক, ভাবলাম আপনাদের সাথেও বিষয়টি নিয়ে আড্ডা মারি! আপনার কম্পিউটার যখন অন্য রকম আচরণ করতে থাকে তখন স্বাভাবিক ভাবেই আপনি ভাববেন যে আপনার সখের পিসিটি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এখন ভাইরাস তো অনেক রকমের আছে, যদি আপনি ভাইরাসের প্রকারভেদ জানতে পারেন তাহলে এদের থেকে বেঁচে থাকতে পারবেন এবং আরো দ্রুত পিসিকে সাড়িয়ে তুলতে পারবেন।ভাইরাস এক ধরণের প্রোগ্রাম যা অন্য কোনো প্রোগ্রামে (Executable File) ঢুকে তাকে আক্রান্ত করে এবং এক পিসিথেকে অন্য পিসিতে নিজেকে প্রসারিত করে। তবে এক পিসি থেকে অন্য পিসিতে ভাইরাস ছড়ানোর জন্য ৯৮% ক্ষেত্রে আমরা নিজেরাই দায়ী। ভাইরাস পিসি প্রোগ্রাম থেকে ডাটা ফাইল এমনকি হার্ডডিক্সের বুট সেক্টরেও লুকিয়ে থাকতে সক্ষম। ভাইরাস সাধারণত হার্ডডিক্সের জায়গা দখল করে হার্ডডিক্সের জায়গা ভরে দেয়, সিপিইউ টাইমে ওলট-পালট করে, প্রাইভেট তথ্য চুরি, ডাটা করাপ্ট করা সহ পিসির পর্দায় হাস্যকর কিংবা অদ্ভুত বার্তা প্রদর্শন করতে পারে। তবে সব ভাইরাসই পিসির ক্ষতি করে না এবং সব ভাইরাস নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পারে না। দুনিয়ার ৯৯% ভাইরাস মাইক্রোসফট উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে রয়েছে, মানে উইন্ডোজেই ভাইরাস আক্রান্ত হয় সবচেয়ে বেশি। কেন হয় তা নিয়ে আরেকটি আড্ডা দিবো। ভাইরাসের কারণে সিস্টেম ফেইলিয়ার, পিসি রির্সোস নষ্ট, ডাটা নষ্ট, পিসি নিয়ন্ত্রণ খরচাবলি বৃদ্ধি ইত্যাদি জন্য প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। ভাইরাসকে দমন করতে বহু ফ্রি এবং ওপেন সোর্সের এন্টিভাইরাস যেমন তৈরি হচ্ছে তেমনি লাখ লাখ টাকার এন্টিভাইরাস কোম্পানিও তৈরি হচ্ছে। তবে দুঃখের কথা এই যে, আজ পর্যন্ত একটিও এন্টিভাইরাস তৈরি হয়নি যা আপনাকে সর্ম্পূণভাবে ভাইরাস থেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবে। এক ধরণের ভাইরাস রয়েছে যার নাম রেসিডেন্ট ভাইরাস। এটি একবার আপনার পিসিতে ঢুকে গেলে সর্বনাশ! এটি আপনার অপারেটিং সিস্টেমে প্রথমে প্রবেশ করে এবং অপারেটিং সিস্টেম মুছে দিলেও এটি র্যামের মধ্যে থেকে যায়! জনপ্রিয় ভাইরাসের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ম্যাক্রো ভাইরাস। এটি ওর্য়াড ফাইল, পিডিএফ ফাইল ইত্যাদির মধ্যে ম্যাক্রো ভাষায় লেখা থাকে। আর তাই,ম্যাক্রো ভাইরাস আক্রান্ত ফাইলটি ওপেন করলেই . . . .! একে অনেকেই ডকুমেন্ট ভাইরাস বলে থাকেন। কিছুদিন আগে এই ভাইরাসের দেখা পেয়েছিলাম ফুফুর পিসিতে! এটিকে Stoned Virus বলে কম্পিউটারের পরিভাষায় ভাইরাস (Virus) শব্দটিকে ভাঙলে পাওয়া যায় ’’ভাইটাল ইনফরমেশন রিসোর্স আন্ডার সিজ’’ বা Vital Information Resources Under Seize = VIRUS. অথ্যার্ৎ গুরুত্বপূর্ণ উৎসগুলো বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রখ্যাত গবেষক প্রেড কোহেন ভাইরাস এর নামকরণ করেন। আবার অনেকেই VIRUS কে Very Important Resource under Seize নামেও অভিহিত করে থাকেন। সত্তরের দশকে আরপানেট –(Arpanet) এ “ক্রিপার ভাইরাস” নামে একটি ভাইরাসকে প্রথম চিহ্নিত করা হয়। ১৯৭১ সালে বিবিএন – এ কর্মরত বব থমাস পরীক্ষামূলকভাবে নিজে নিজে প্রতিরুপ সৃষ্টিকারী এই প্রোগ্রামটি লিখেন। Tennex অপারেটিং সিষ্টেমে চালিত DEC PDP-১০ কম্পিউটারসমূহকে আক্রান্ত করার উদ্দেশ্যে ক্রিপার ভাইরাসটিকে আরপানেটে ছেড়ে দেয়া হয়। ভাইরাসটি সাফল্যের সাথে আরপানেটে অ্যাকসেসের সুযোগ পায় এবং আক্রান্ত সিস্টেমগুলোতে “I’m the creeper, catch me if you can!” মেসেজটি প্রদর্শন করে। ক্রিপারকে মুছে দেবার জন্য পরে অবশ্য আরেকটি প্রোগ্রাম লিখা হয়। ১৯৯৯ সালে ২৬ এপ্রিল বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ কম্পিউটার সিআইএইচ বা চেনোবিল নামক ভাইরাসের আক্রমেণ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। টাইম বোমায় ন্যায় নির্দিষ্ট সময়ে এ ভাইরাসটি কম্পিউটারকে আক্রান্ত করে। একই সময়ে সারাবিশ্বে ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার এটিই সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা। র্যানসমওয়্যার – ransomware ভাইরাসের শ্রেণীবিভাগ করা খুবই কঠিন। কারণ প্রায় প্রতিদিনই কিছু অসাধূ প্রোগ্রামারদের দ্বারা নতুননতুন ভাইরাস তৈরি হচ্ছে। তারপর ও আমি ভাইরাস কে ১৫টি শ্রেণীবিভাগ করতে পেরেছিঃ ১। ট্রোজান হর্স ভাইরাস ২। প্রোগ্রাম ভাইরাস ৩। কমান্ড পারপাস ভাইরাস ৪। জেনারেল পারপাস ভাইরাস ৫। ম্যাক্রো ভাইরাস ৬। কমপেনিয়ন ভাইরাস ৭। ওভার রাইটিং ভাইরাস ৮। মাল্টিপারশিয়েটভাইরাস ৯। ফাইল ভাইরাস ১০। বুট সেক্টর ভাইরাস ১১। পার্টিশন সেক্টর ভাইরাস ১২। মেমোরি রেসিডেন্ট ভাইরাস ১৩। স্টিলথ ভাইরাস ১৪। ফ্ল্যাশ ভাইরাস ১৫। কাস্টম ভাইরাস (দুনিয়ায় যত নতুন নতুন ভাইরাস তৈরি হচ্ছে) ম্যাক্রো ভাইরাসঃ এটি একটি সাধারণ শ্রেণীর ভাইরাস যা ডাটা ফাইলকে আক্রমণ করে। এই ভাইরাস তৈরি করা খুবই সহজ। এই ভাইরাস মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের ফাইলসমূহে আক্রমণ করে বেশি। বর্তমান সময়ে এই ধরণের ভাইরাস প্রায়ই দেখা যায়। এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত ওর্য়াড ফাইলটি চালু করলে কিছু আজেবাজে লেখা দেখা যায় মূল ফাইলের সংরক্ষিত লেখা সমূহের বদলে। বুট সেক্টর ভাইরাসঃ এটির নাম দেখেই বুঝা যাচ্ছে যে এটি কি ধরণের ভাইরাস এবং এটির কাজ কি। এক জাতীয় ভাইরাস সরসরী কম্পিউটারের বুট সেক্টর নিজেদের কোড দ্বারা পরিবর্তন করে এবং অপারেটিং সিষ্টেমের একটি অংশ হয়ে যায়!। এগুলো মেমোরীতে নিজেদের স্থাপন করে। এরপর বুট সেক্টরকে ডিস্কের অন্য স্থানে সরিয়ে রেখে নিজের কোড দিয়ে বুট সেক্টরকে প্রতিস্থাপন করে। এ জাতীয় ভাইরাস কম্পিউটারের বুটিং সিস্টেম ধ্বংস করে দেয়। ফাইল ভাইরাসঃ এই ভাইরাসটি অতি “জনপ্রিয়!”। মানে প্রায় সব পিসিতেএই ভাইরাস প্রায়ই দেখা যায়। এই ভাইরাস এক্সিকিউটেবল প্রোগ্রাম ফাইলসমুহকে আক্রমণ এবং এক্সটেনশন যুক্ত ফাইলসমুহকে আক্রান্ত করে। আক্রান্ত প্রোগ্রাম রান করলে প্রথমে ভাইরাস রান করে অরিজিনাল প্রোগ্রামের নিয়ন্ত্রণ করে এবং পরে প্রতিলিপি তৈরি করার জন্য এর কোডকে অন্য ফাইল এ কপি করে। প্রোগ্রাম ভাইরাসঃ এইসব ভাইরাস তাদের ভাইরাস কোড এক্সিকিউটেবল ফাইলের প্রথমে বা শেষে যুক্ত করে এবং মূল প্রোগ্রামের কোন বিশেষ অংশকে নিজস্ব কোড দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে। ওভার রাইটিং ভাইরাসঃ এই ভাইরাসটি আক্রান্ত ফাইলগুলোকে তার নিজস্ব কোড দ্বারা ওভার রাইট করে এতে ওই প্রোগ্রামের আর কোন কাজ থাকে না। মানে আক্রান্ত প্রোগ্রামটি নষ্ট হয়ে যায়। কম্প্যানিয়ন ভাইরাসঃ এই ভাইরাসটিকম্পিউটারের .exe এক্সটানশান যুক্তফাইলকে .com এক্সটানশান এ রুপান্তরকরে ফাইলটি কে নষ্ট করে ফেলে। ট্রোজান হর্স ভাইরাসঃ গ্রীক এর পুরান ট্রোজান ঘোড়ার নামানুসারে এই ভাইরাসের নামকরণ করা হয়। এটি আসলে খুবই মারাক্তক ভাইরাস যদিও উপকারের মত ভান করে। এই ভাই

48 total views, 0 views today

mm
About bipul 5678 Articles
Love is Life

Be the first to comment

Leave a Reply