Priyo24.Com

Place of somethings Knowing

গল্পঃ””‘মেয়ে বিরোধী ছেলে”””

তাওহীদ শুয়ে থেকে ফেসবুক রিলেশনের
Relationship
None
Single
In a relationship
Engaged
Married
In a civil partnership
In a domestic partnership
In an open relationship
It’s complicated
Separated
Divorced
Widowed
এই অফশন গুলো দেখছিল।কারণ তার অনেক বন্ধু বান্ধব এই রিলেশন অফশনের অনেক গুলোতে জড়িয়ে আছে।
তার মা ও তাকে এক রিলেশনে জড়িয়ে দিয়ে দিচ্ছে।আর এই ‌টেনশনেই শুয়ে শুয়ে এসব দেখছে আর ভাবছে।যদি কোনো উপায় বের করতে পারে।
আবার সে যে তার মাকে না করবে তার ও কোনো উপায় নাই।কারণ সে চাকরি করছে অনেক দিন হয়েছে।আবার বিয়ে করবে না করবে না বলেও অনেক দিন পার করে দিয়েছে।কিন্তু এবার তাকে বিয়ে করতেই হচ্ছে কোনো উপায় বের করতে পারছে না।

যাকে বউ করে আনবে সে হল তাওহীদের মায়ের বান্ধবীর মেয়ে।মেয়ের নাম সাথী। সাথী মেয়ে দেখতে মাশআল্লাহ
কিন্তু কাজে কর্মে ফাঁকা।মানে হচ্ছে রান্নার কাজটা কম পাড়ে, কিন্তু নামাজ কালাম ঘর গুছানো থেকে অন্যান্ন কাজ ঠিকমত পাড়ে।আধুনিক পরিবেশে পড়ে ও আধুনিকতা দেখে ইসলামের নিয়ম-কানন গুলোকে সে ভুলে যায়নি; সে ঠিকমতই পালন করে যায়।
তাওহীদ ইসলামিক জীবন-যাপন টা খুব মানে।ইসলামিক পথে সব সময় চলতে চেষ্টা করে।সে ছেলে হিসেবেও অনেক ভালো।সে সবার সাথেই ভাল ভাবে কথা বলতে চলতে ও মিশতে চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো মেয়ে মানুষ দেখলেই পিচিয়ে থাকে।সে মেয়ে মানুষদেরকে দেখতে পারে না।
কারণ
একদিন কিছু মেয়েরদেরকে একটা অসামাজিক কাজ করতে দেখে আর ঐদিনেই মেয়েদের প্রতি তার একটা ঘৃণা জন্মে।তারপর থেকেই সে মেয়েদেরকে দেখতে পারে না। আর যেসব মেয়েদেরকে মর্ডান দেখতো তাদেরকে তো দুই চোখেই দেখতে পারতো না।(তখন মনে মনে বলতো, আধুনিক পরিবেশ দেখে আধুনিকতা শিখে গেছেন মরলে কি হবে একবার ভেবে দেখেছেন?)
কিন্তু যেসব মেয়েদেরকে পর্দা মেনে চলতে দেখতো তাদের প্রতি তার একটা এমনেতেই শ্রদ্ধাবোধ কাজ করতো।
ঐদিনেই মনে মনে ঠিক করে আর কোনোদিন বিয়ে করবে না।কারণ যে যুগ পড়েছে কোন মেয়ে ভাল কোন মেয়ে খারাপ বুঝা যায় না। কিন্তু তার মায়ের জোড়াজোড়িতে বিয়ে করতে রাজী হয়।এবং তাকে একবার ও সাথীর সাথে দেখা বা কথা বলতে দেয়নি।তাই মনে মনে ঠিক করে রাখে যদি তার মনের মত না হয় তাহলে তাকে তালাক দিয়ে দিবে।

সাথীর সাথে তার তেমন দেখাও হয়নি কথাও হয়নি।অনেক দিন আগে একবার দেখেছিল। তাই সে জানে না সাথী কি রকম মেয়ে।তাওহীদের মা মনে করেছে সাথীকে উনার ছেলের বউ হিসেবে আনলে উনার এই ‌এলোমেলো, অগোছালো ছেলেকে গুছিয়ে রাখতে পারবে।
এই মেয়ে বিরোধী ছেলেকে মেয়েদের পক্ষে কথা বলাতে পারবে। সব মেয়েদের সম্পর্কে তার যে একটা ভুল ধারণা কাজ করে সেটা ভেংগে দিতে পারবে।
সাথী ও চায়তো বা প্রায় সব মেয়েরেই একটা স্বপ্ন থাকে, একটা নতুন ঘর পাবে, একটা নতুন পরিবার পাবে।সে পরিবারে তাদের মত করে নিজেকে মানিয়ে নিবে, সবার দেখাশুনা করবে, সবার সাথে ভালভাবে চলবে, সবাইকে ভালবাসবে।বিনিময়ে নিজেও সবার কাছে থেকে একটু ভালবাসা পাবে।
তাওহীদ আরেকটা কারণে বিয়ে করতে আরও ভয় পায়।তাই সে বিয়ে করে মাকে কষ্ট দিতে চায় না।কারণ বর্তমান সময়ে বউ ঘরে আনলে দুইদিন পরেই বাবা-মার সাথে ঝগড়া করে, বাবা-মাকে ছেড়ে নতুন সংসার তৈরি করতে বলে।সে এটাও মানে সব মেয়ে এক রকম না।তারপরেও নিজের মনটাকে মানাতে পারে না। আর তার মায়ের কথা রাখতে গিয়েই বিয়ে করতে রাজী হয়।

সাথী বউ ‌সাজে বসে আছে বাসর ঘরে।মনে মনে ভাবতে থাকে তাওহীদ স্বামী হিসেবে কেমন হবে! ভাল হবে না খারাপ হবে? তার এই ভাবনাটার কারণ হল- সে শুধু তাওহীদের নাম জানে ও তাওহীদকে এমনেতে চিনে।কিন্তু তাওহীদ কি রকম! তার চাল-চলণ, আচার-ব্যবহার কি রকম! কি কি পছন্দ করে, কি কি অপছন্দ করে তা সে জানে না।তাওহীদের সাথে তার অনেকদিন আগে দেখা হয়েছিল ও এক দুই বার কথা হয়েছিল এতটুকুই। তারপর আর দেখাও হয়নি কথাও হয়ি।
কিছুক্ষণ পর তাওহীদ রুমে প্রবেশ করতেই সাথী খাট থেকে নেমে তাকে সালাম করে।সাথীর এই শ্রদ্ধাবোধটা দেখে তার ভাল লাগে।কিন্তু সাথী কেমন সে জানে না, সে কেমন সাথী জানে না।তার মায়ের জন্যই বিয়ের আগে দেখা করতে পারেনি কথা বলতে পারেনি।কারণ তার মা যোগাযোগ করতে দেয়নি।যদি সে বিয়ে ভেংগে দেয় সেজন্য।সাথীর দিকে একবার তাকিয়ে তারপর তাকে বলতে থাকে।
– তুমি কখনো আমার কাছে আসতে চেষ্টা করবে না।তুমি কেমন আমি জানি না, আমি কেমন তুমি জানো না।তুমি যদি নিজেকে পবিত্র মনে কর তাহলে আমার ঘরে থাক।আর যদি নিজেকে অপবিত্র মনে কর তাহলে চলে যেতে পারো।যদি থাক তাহলে স্ত্রীর অধিকার পাবে না, যেদিন আমার মনের মত মনে করব সেদিনেই স্ত্রীর অধিকার দিব। তোমার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে। এই কথা গুলো বলার কারণ আমি মেয়েদেরকে দেখতে পারি না, তাদেরকে বিশ্বাস করি না। তাই চিন্তা করেছিলাম যতদিন বাঁচব ততদিন বিয়ে না করেই কাটিয়ে দিব। কিন্তু মায়ের জন্য আর পারলাম না।
তখন সাথী অবাক চোখে তাওহীদের কথা গুলো শুনছিল আর তার শাশুড়ি মায়ের কথা গুলো মনে হচ্ছিল। তার শাশুড়ি মা তাওহীদের সম্পর্কে এরকমেই বলেছিল।তারপর তাকে বলেছিল সে যতদিন বেঁচে থাকে ততদিন যেন তাওহীদকে দেখে রাখে ও একটু ভালবাসে।আর বলেছিল কোন সময় ভুল বুঝে যেন দূরে সরে না যায়।সব সময় যেন কাছে থেকে তাকে আগলে রাখে।কারণ স্বামীর পায়ের নিচেই যে স্ত্রীর বেহেস্ত।আরও বলেছিল, আমার ছেলেটা অনেক ভাল।কিন্তু কিছু মেয়ের খারাপ কাজের জন্য সে সব মেয়েকে সমান মনে করে।সব মেয়ে যে সমান না, কিছু মেয়েও যে ভাল আছে।তুমি পারবে না মা! তার এই ভুল ধারণাটা ভেংগে দিতে? সাথী বলেছিল পারব মা আপনি শুধু দোয়া করবেন।তারপর সাথী বলতে থাকে
– যেদিন আপনি নিজে থেকে কাছে টেনে নিবেন সেদিনেই কাছে যাব।হ্যাঁ ঠিক বলছেন আপনি কেমন আমি জানি না, আমি কেমন আপনি জানেন না।কিন্তু দু-জনে যদি দু-জনের কথা গুলো না শেয়ার করি তাহলে কি জানা যাবে? আমি আপনার ঘর থেকে যাব না, আমি কেমন নিজেও জানি না, কিন্তু আমি কেমন তা একমাত্র উপর ওয়ালা জানে।
আমি আপনার ঘর থেকে সেদিনেই বের হব যেদিন আমার সারা শরীরে সাদা কাপড়ে ডাকা থাকবে।এর আগে না।আপনি আমাকে স্ত্রীর মর্জাদা দেন আর নায়েই দেন আমি আপনাকে স্বামী মনে করি এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মনে করে যাব।শুধু একটা অধিকার আমি খাঠাব সেটা আপনি না করতে পারবেন না।আপনার সুখের সাথী হতে চাইনা দুঃখের সাথী হয়ে
থাকতে চাই!
সাথীর এমন কথা শুনে তাওহীদ অনেক অবাক হয়, ভেবেছিল তার এসব কথা শুনে বাপের বাড়ি চলে যাওয়ার কথা বলবে।তখন সাথীর দিকে তাকিয়ে দেখে তার মুখটা লাল হয়ে আছে ও চোখ গুলো জলে টলমল করছে।এটা দেখে তার হৃদয়টা একটু নড়ে ওঠে।
কিছুক্ষণ পর দেখে সাথী নামাজ আদায় করছে।সাথীর নামাজ শেষ হলে তাকে বলে খাটে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়তে।কিন্তু সাথী খাটে শুতে চায়নি; তাওহীদ তাকে বাধ্য করে।তারপর সে নামাজ পড়ে মেঝেতে বিছানা পেতে শুয়ে পড়ে।

হঠাৎ রাতে সাথীর ঘুম ভেঙে যায়।তারপর মেঝেতে চোখ পরতেই দেখে তাওহীদ মেঝেতে চাদর বিচিয়ে ঘুমিয়ে আছে।তাওহীদের মুখটার দিকে তাকাতেই দেখে তার মুখটা মায়ায় ভরে আছে।সাথী মনে মনে বলে, এই ছেলে মেয়েদের প্রতি কেন এত রাগ! হু? কেন এত অভিমান? সব মেয়েই কি সমান? মুখে মায়া লাগিয়ে আমাকে নিজের মায়ায় ফেলে নিজে শান্তিতে ঘুমিয়ে আছে। তারপর তাওহীদের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়ে টের পায়নি।সকালে আযানের ধ্বনিতে সাথীর ঘুম ভাংগে।তারপর মেঝেতে তাকিয়ে দেখে তাওহীদ এখনও ঘুমিয়ে আছে।আবার তার দিকে তাকিয়ে থাকে, কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর একটা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে তাকে ডাকতে থাকে।
– এই যে শুনছেন? এই যে শুনছেন? এভাবে কয়েকবার তাওহীদকে ডাক দেয়।
– কিন্তু তাওহীদ ঘুমের কারণে কোনো কথা বলতে পারেনি।সাথীর ডাকে ঘুমের ঘুরে শুধু এপাশ থেকে ওপাশে ফিরে।
– সাথী আবার ডাক দেয়।
– তখন ঘুমের ঘুরেই শুধু হুম বলে।
– আযান পড়ে গেছে নামাজ পড়বেন না?
– হুম।তুমি যাও তৈরি হয়ে নাও।
তারপর সাথী ওযু করে নামাজ পড়ে কুরআন তিলাওআয়াত করতে থাকে।তাওহীদ ও তৈরি হয়ে নামাজ পড়ে শুয়ে থেকে সাথীর কুরআন তিলাওআয়াত শুনতে থাকে।তখন তাওহীদ মনে মনে বলে, এত সুন্দর কন্ঠ কারো হতে পারে!
সাথী কুরআন তিলাওআয়াত শেষ করে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে থেকে সূর্য উঠার অপেক্ষা করতে থাকে।

সূর্য উঠলে সেই সূর্যের রশ্মি তাওহীদের চোখে মুখে এসে পড়ে।আর সাথী! সূর্য ওঠা দেখতে থাকে।তাওহীদ সূর্যের আলোটাকে সরাতে যাবে তখন সাথীর সূর্যে পড়া মুখটা তার চোখে ভেসে উঠে।আর তাওহীদ অনেক্ষণ এই মুখের দিকে তাকিয়েই থাকে।
তারপর সাথী রান্না ঘরে গিয়ে শাশুড়ি মায়ের নাস্তার কাজে সাহায্য করতে থাকে।তার শাশুড়ি মা বলে
– নতুন বউ হয়ে এসেছ এখনেই রান্না ঘরে কি কর?
তখন সাথী বলে
– না মা আমি তো কিছু পারি না।আপনার কাজে সাহায্য করলাম নিজেও শিখে গেলাম।আর উনি কি কি খেতে পছন্দ করে সেটাও জেনে গেলাম।আমি কাজ পারলে তো আপনার এই ঘরে আসাই আটকে দিতাম।কিন্তু যেদিন সব পারব সেদিনেই আপনাকে আটকিয়ে দিব
– ওরে আমার লক্ষি মারে কি পাকনা পাকনা কথা বলে।আচ্ছা আস্তে আস্তে সব শিখিয়ে দিব, আর পাঁকা রাধুনীও বানিয়ে দিব।আমি বসে বসে খাব তুই রান্না করে করে সবাইকে খাওয়াবি আর দিন পার করবি।(শেষের কথাটা মজা করে বলে)
শাশুড়ি মায়ের এমন কথা শুনে সাথী লজ্জা মাখা মুখে হেসে ফেলে।
তারা বউ মা ও শাশুড়ি মা মিলে তাড়াতাড়ি নাস্তা বানিয়ে ফেলে।তারপর সবাই মিলে নাস্তা করে যে যার রুমে চলে যায় বিশ্রাম নিতে।সাথী বেলকনিতে বসে থেকে বাহিরের প্রকৃতি দেখতে থাকে আর ভাবতে থাকে, কি ভেবেছিল আর কি হল! তখন মনে মনে বলে, সময় লাগবে স্বামীকে ঠিক করতে একদিন স্বামী ঠিকেই বুঝবে।তাওহীদ শুয়ে থেকে ফেসবুক ঘুতাতে থাকে ও একটু পর পর আড় চোখে সাথীকে দেখতে থাকে।সাথীকে যতই দেখে ততই সাথীকে দেখতে তার ইচ্ছা করে।এই ইচ্ছা টা সাথীকে দেখার পর থেকেই তার হচ্ছে।কিন্তু কেন দেখতে ইচ্ছা করে সে জানে না, সে বুঝতে পারে না।
দুপুরের ও রাতের খাবার বউ শাশুড়ি মিলেই তৈরি করে। এক সাথেই সবাই খাওয়া-দাওয়া করে।রাত হলে সাথী খাটে ও তাওহীদ নিচে শুয়ে পড়ে।এভবেই তাদের প্রতিটা দিন কেটে যেতে থাকে।তার শশুর-শাশুড়ি তাদের ব্যপারটা বুঝতে পারে কিন্তু তারপরেও চুপ করে থাকে।তখন সাথীকে বলতো দৈর্য্য ধারণ করে থাকতে, সময়েই সব ঠিক করে দিবে।

এভাবেই তাদের দিন গুলি চলে যেতে থাকে।কিন্তু তাওহীদের কাছে সাথী আসতে পারে না, তাকে সব সময় সব কিছুতেই অবহেলা করে।তাই সে একা একাই মন খারাপ করে থাকতো, সবার আড়ালে চোখের জল ফেলতো।সে তার শশুর-শাশুড়ির সেবা থেকে শুরু করে ঘরের সব কাজ করতো।কিন্তু তাওহীদের কাজেই কম করতে পারতো।কারণ সে সাথীকে কাছে আসতে দিতো না ও তার কাজও করতে দিতো না।শুধু টাই-টা বাঁধার সময়ে তাওহীদকে একটু কাছে পেত।কারণ টাই-টা তাওহীদ একা পড়তে পারতো না, আগে তার মা বেঁধে দিতো।কিন্তু এখন মাকে বলতে পারে না।কারণ নিজের বউ রেখে মাকে কি করে বলে! তাই বাধ্য হয়ে সাথীকে বলতো।

আজ সকালে তাওহীদের বাবা-মা তাদের দেশের বাড়িতে বেড়াতে যায়।তাওহীদ ও অফিসে চলে যায়।আর সাথী! একা হয়ে যায়, একা একা সময় কাটাতে ও কাঁদতে থাকে।তার এই দুঃখের দিন কোনদিন শেষ হবে! তার স্বামী তাকে কোনদিন বুঝবে! কোনদিন কাছে টেনে নিবে? নাকি কোনদিন বুঝবে না, নাকি তাকে কোনদিন কাছে টেনে নিবে না! এসব ভাবে আর কাঁদে।সে আধুনিক যুগের আধুনিক মেয়েদের গালি দিতে থাকে।কেন তারা বাজে ভাবে চলাফেরা করে! কেন অসামাজিক কাজ করে? কেন তারা আধুনিকতা দেখে আধুনিকতার পিছে দৌড়াবে? নিজের ধর্ম, কর্ম, সংস্কৃতিকে কেন ভুলে যাবে? তারা কি একবার ভেবে দেখেছে!
মরলে কি হবে?
সাথীর সব থেকে শান্তি লাগে যখন তাওহীদ তাকে টাই বেঁধে দিতে বলে।কারণ কিছু সময়ের জন্য হলেও তো তার কাছে যেতে পারে ও তাকে একটু স্পর্শ করতে পারে।কিন্তু এতে তার মন ভরে না, মনে প্রকৃত শান্তি টা পায় না। আবার তাওহীদের মত স্বামী পেয়েও নিজেকে অনেক ভাগ্যবতী মনে করে।কারণ সে কোন বাজে নেশা বা কাজ কর্ম করে না সে জন্য।
আজ অফিসে এসে তাওহীদ কোন কাজে কিছুতেই মন বসাতে পারছে না।কারণ-টা সাথীর চোখের পানি।কয়েকদিন ধরে লক্ষ করছে, সাথী মন খারাপ করে থাকে।প্রথম যখন বউ হয়ে আসে তখন হাসি খুশি ভাবেই দিন কাটাতো, তার আশে-পাশে প্রায় সময় ঘুরাফেরা করতো।আবার মাঝে মাঝে একা একাই বকবক করতো।কিছুদিন ধরে তাকে ঠিকমত দেখতে পায় না, যখন তাকে খুঁজতো তখন দেখতো বেলকনিতে দাঁড়িয়ে থেকে নীল আকাশ দেখছে।আর কয়েকদিন ধরে রাত হলেই তার কান্না শুনে।তখন তার অনেক খারাপ লাগতো, সাথীর কান্না থামাতে যেয়েও থামাতে পারতো না, মনে একটা বাঁধা কাজ করতো।মনে মনে বলতো আমি না মেয়েদেরকে দেখতে পারি না তাহলে কেন তার কান্না সহ্য করতে পারি না।তার মন খারাপ করে থাকা মুখটা কেন দেখতে পারি না।তাকে হাসি খুশি দেখলে কেন আমার ভালো লাগে।কেন আমার সময়-টা ভালো কাটে!
যখন তাকে টাইটা বাঁধতে বলি তখন কেন দৌড়ে ছুটে আসে! সেও কি আমাকে ভালবাসে? নাকি ভালবাসে না? নাকি অভিনয় করে? যদি ভাল নায়েই বাসে তাহলে কেন এখনো এই বাড়িতে পরে আছে? অভিনয় করলেও কি এভাবেই এখানে পরে থাকতো?
কেন আমার বাবা-মা মার সেবা করছে? সে তো ভাল মেয়ে না, তাকে তো আমি খারাপ মেয়ে মনে করি! তাহলে কেন এসব করবে?(মনে মনে এসব কথা বলতে থাকে আর ভাবতে থাকে)
সাথী আসার পর থেকে তার সাথে যা যা করেছে তখন সম্পর্ণ চিত্রটা তার সামনে ভেসে ওঠে।চিত্রটা ভেসে উঠার পর তারেই খারাপ লাগতে থাকে। কিছুদিন আগে একটা কারণে রাগের মাথায় ঠাস করে সাথীকে চড় মারে।তখন সাথী তার দিকে করুণ চোখে শুধু একবার তাকিয়েছিল, ঐ-দিন থেকেই একেবারে সে চুপ হয়ে যায় ও তার থেকে দূরে দূরে থাকে, রাত হলে কাঁদে।
তারপর মনে মনে বলে, অনেক হয়েছে আর না, তাকে আর কষ্ট দিতে পারবে না।তাকে তার প্রাপ্য অধিকার দিয়ে দিতে হবে।তার থেকে ভাল আর কেউ হতে পারবে না, ভালবাসতেও কেউ পারবে না।

সাথী কাঁদতে কাঁদতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়ে বুঝতেই পারেনি; কলিং বেলের আওয়াজে সাথীর ঘুম ভাঙ্গে।সাথী শুয়া থেকে উঠতে যাবে কিন্তু পারে না, গায়ে হাত দিয়ে দেখে তার অনেক জ্বর উঠেছে, কোনমতে দরজাটা খুলে ।তাওহীদ তাকে পাশ কাটিয়ে রুমে আসতে যাবে তখনেই সাথী মেঝতে পরে যায়।হঠাৎ সাথীর এরকম আচরণে ভয় পেয়ে যায়।সাথে সাথেই সাথী! সাথী! বলে ডাকে কিন্তু সাথী কোন কথা বলে না।তার মুখটার দিকে তাকিয়ে দেখে, তার চোখের কোণে জলের ফোটা স্পষ্ট হয়ে ভেসে আছে।এটা দেখে তার হৃদয়টা হু হু করে কেঁদে উঠে।গায়ে হাত দিতেই দেখে জ্বরে সারা শরীর পুড়ে যাচ্ছে।
তারপর তাকে কোলে করে নিয়ে খাটে শুয়ে দেয়।যখন তাকে রেখে উঠতে যাবে তখন দেখে সাথী তার শার্টের কলার টা শক্ত করে ধরে আছে।তাওহীদ কি করবে ভেবে পাচ্ছে না।আজ ফিরার পথে তার জন্য দোকান থেকে পায়েল কিনে নিয়ে আসে।সে ভেবেছিল আজ সাথীকে তার ভালবাসার কথা বলবে, স্ত্রীর অধিকার দিবে ও উপহার সুরুপ পায়েল পড়িয়ে দিবে।কিন্তু এসেই যে এই পরিস্থিতিতে পরে যাবে বুঝতে পারেনি।তারপর তার দিকে অনেক্ষণ তাকিয়ে থাকে।তখন সাথীর গালটা একটু ছুঁয়ে দিতে মন চাচ্ছিল চুল গুলোকেও বিলি কেটে দিতে মন চাচ্ছিল, কিন্তু কি একটা বাঁধা তার মনে কাজ করছিল।
প্রিয়২৪.কম

তারপর ডাক্তারকে ফোন করলে ডাক্তার এসে সাথীকে দেখে ঔষুধ দিয়ে চলে যায়। তখন থেকেই তাওহীদ তার দেখাশুনা করতে থাকে। সময়ে সময়ে জলপট্টি দেওয়া, জ্বর মাপা, খাবার খাইয়ে দেওয়া, ঔষুধ খাইয়ে দেওয়া ও আরও না না রকমের কাজ।রাতে যখন শুতে যাবে তখন তাওহীদকে ধরে রাখে। তাওহীদের ও মন চাচ্ছিল না।রাতে শুনে সাথী জ্বরের ঘুরে বলছে
– আপনি আমাকে ভালবাসেন আর নায়েই বাসেন কিন্তু একটু সেবা করতে দিয়েন! কোনদিন ভালবাসা চাইব না স্ত্রীর অধিকার ও চাইব না শুধু মরার আগ পর্যন্ত সেবা করতে চাই! দিবেন না বলেন?
সাথীর কথা গুলো শুনে তার চোখে পানি এসে পড়ে। মনে মনে বলে আমি তাকে এতই কষ্ট দিয়ে ফেলেছি! এতদিন কি তাহলে তাকে শুধু শুধু ভুল বুঝে গেছি! সাথী আরও নানা ধরণের কথা বলতে থাকে আর সে কথা গুলো শুনে শুনে তাওহীদ কাঁদতে থাকে।এভাবেই তিনদিন চলে যায়।
আজ সকালে সাথী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে।চোখ খুলতেই দেখে তাওহীদ তাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে।তখন যে তার কত ভাল লাগছিল বলে বোঝাতে পারবে না।এই কষ্টের মাঝেও চরম সুখী মনে হচ্ছিল।কারণ এই প্রথম তাওহীদের হাতের স্পর্শ পেয়েছে, আদর পেয়েছে, ভালবাসা পেয়েছে।এই থেকে তার আর কি সুখ হতে পারে। তখন তার মনে একটু অভিমানী ভাব জেগে ওঠে মন না চায়লেও তাকে এই কাজটা করতে হয়।তাওহীদের হাতটা সে সরিয়ে দেয়।সাথে সাথেই তাওহীদ জেগে ওঠে।তাওহীদ বলে
– দুঃখিত, আমি তোমার সাথে শুতে চায়নি। তুমিই জ্বরের ঘুরে আমাকে ছাড়নি।তাই বাধ্য হয়ে থাকতে হয়েছে। তা এখন কেমন বোধ করছ?
তখন সাথীর দিকে তাকিয়ে দেখে তার মুখ টা কেমন হয়ে আছে।সাথী বলে
– ভাল লাগছে, জ্বর ও কমে গেছে।
তারপর সাথী ঘর-দর গুছিয়ে ফ্রেশ হয়ে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে থেকে বাহিরের প্রকৃতি দেখতে থাকে, আর মনে এক অজানা ভাল লাগা কাজ করতে থাকে।
প্রিয়২৪.কম

এমন সময় তাওহীদ পাশে এসে দাঁড়ায়।তারপর বলে
– সাথী!
তাওহীদের এই ডাক শুনে সাথী অনেক অবাক হয়।তারপর বলে
– জ্বি বলেন
আমি ভুল করেছি সাথী!
তোমাকে সব মেয়েদের মত মনে করেছি।
আমাকে ক্ষমা করে দাও ‌তমি।
আর কখনো ভুল বুঝতে চাই না
তুমিও ভুল বোঝার মত কাজ করো না
আবার ভুল করলে
আমি তোমার ভুল গুলো ধরিয়ে দিব
তুমি আমার ভুল গুলো ধরিয়ে দিবে
সাথী! অনেক আমি ভালবাসি তোমাকে
তুমি একটু ভালবাসবে আমাকে!
তারপর সুখে-দুঃখে কাটিয়ে দিতে চাই বাকী দিন গুলি দু-জনে
সারাজীবনের সাথী হয়ে পাশে থাকবে!(সে তার ভুলটা বুঝতে পেরে সাথীর কাছে ক্ষমা চেয়ে এই কথা গুলো সাথীকে বলে।কারণ সে মনে করেছিল সব মেয়েই সমান।কিন্তু এখন মনে করছে, সবাই সমান না)
.
সাথী কি বলবে বুঝতে পারছে না, আনন্দে তার চোখে পানি এসে পড়ে।তারপর তাওহীদকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে।তাওহীদ বলে
– এই পাগলী! কাঁদো কেন? আমি বলেছি না তোমাকে ভালবাসি।তারপরেও কেন কাঁদো? আর কাঁদবে না কখনো।
– আজ যে আমি সব থেকে সুখী তাই মনের আনন্দে কাঁদতেছি।
তখন সাথীকে দুহাতে গালে ধরে তার দিকে তাকিয়ে থাকে, তারপর সাথীর কপালে ভালবাসার পরশ এঁকে দিয়ে বলে।সাথী ভালবাসার পরশ পেয়ে আবার কেঁদে ফেলে।তারপর তাওহীদ তাকে বলে পা বাড়িয়ে দিতে সে অবাক চোখে কথামত পা টা বাড়িয়ে দেয়।
তাওহীদ তার পকেট থেকে পায়েলটা নিয়ে সাথীর পায়ে পড়িয়ে দেয়।সাথী অবাক চোখে তাওহীদের দিকে তাকিয়ে থাকে।তারপর সাথী তার কাঁদে মাথা রেখে তার দিকে তাকিয়ে থাকে।এভাবে শুরু হয় তাদের ভালবাসার পথ চলা।বেঁচে থাকুক তাদের প্রকৃত ভালবাসা বেঁচে থাকুক সবার প্রকৃত ভালবাসা।

বিঃদ্রঃ কিছু মেয়েদের জন্য অনেকেই সব মেয়েদেরকে খারাপ মনে করে।আবার কিছু ছেলেদের জন্যও অনেকেই সব ছেলেদেরকে খারাপ মনে করে।কিন্তু সবাই খারাপ না, এই খারাপের মাঝেও ভাল আছে।

1,743 total views, 3 views today

Updated: January 14, 2017 — 10:33 pm

Leave a Reply

Priyo24.Com © 2018 Raihanul Haque