বাংলাদেশের সফটওয়্যার রফতানির খতিয়ান

লক্ষ্য ঠিক রেখে সফটওয়্যার রফতানির পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।২০১৮ সালের মধ্যে এক বিলিয়ন ডলার এবং ২০২১ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলারের সফটওয়্যার ও সেবাপণ্য রফতানি করতে চায় বাংলাদেশ। ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফটওয়্যার রফতানি করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০৩ সাল থেকে বাংলাদেশ সফটওয়্যার রফতানি শুরু করে। দিনে দিনে সেই রফতানির পরিমাণ বেড়ে শতগুণ ছাড়িয়ে গেছে।এরই মধ্যে অবশ্য বিলিয়নডলারের সফটওয়্যার রফতানির প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ। সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ ও সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠনবাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনঅব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ৭শ মিলিয়ন (৭০ কোটি) ডলারেরসফটওয়্যার রফতানি করছে বাংলাদেশ। এই বৈদেশিক আয়ের মধ্যে রয়েছে সফটওয়্যার ও সেবাপণ্য, ফ্রিল্যান্সারদের আয়, সফটওয়্যার ডেভেলপার ও কল সেন্টারগুলোর আয়।তবে রফতানি আয়ের এই হিসাব নিয়ে দ্বিমতও পোষণ করে থাকেন কেউ কেউ। তাদের অভিমত, সফটওয়্যার রফতানি করে বাংলাদেশ অতি সম্প্রতি ১৫ কোটি ডলারের কিছু বেশি আয় করেছে। অন্যদিকে আরেকটি প্রতিষ্ঠান বলছে, এ আয় প্রায় ২৬ কোটি ডলারের মতো। তবে আইসিটি বিভাগ বলছে, সংশ্লিষ্ট সব আয়েরখাত থেকে প্রাপ্ত আয়ের অর্থ যোগ করলে বর্তমানের মোট আয়ের চেয়ে তা বেশি হবে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বাংলাট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে ৭শ মিলিয়ন ডলারের সফটওয়্যার ও সেবাপণ্য রফতানি করতে পেরেছি। ২০১৮ সালের মধ্যেই আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য এক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারব।’এক প্রশ্নের জবাবে পলক বলেন, ‘সফটওয়্যার রফতানির মোট টাকার অঙ্কনিয়ে একটা ভুল বোঝাবুঝিরয়েছে।আশা করছি, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিয়ে এ বিষয়ক সমস্যার সমাধান করতে পারব। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোসহ (ইপিবি) সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে বসে একটি ছাতার নিচে হিসাবটি নিয়ে আসব।বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘এই লক্ষ্যপূরণ কঠিন, তবে মোটেই অবাস্তব নয়। আমরাসঠিক ট্র্যাকে রয়েছি। এর জন্য আমাদের বিদ্যমান ক্রেতা দেশগুলোর পাশাপাশি নতুন ক্রেতা দেশ খুঁজে বের করতে হবে।দেশীয় সফটওয়্যারের ইমেজ বিশ্ব দরবারে তুলেধরার পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্র্যান্ডিং করারও পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘লক্ষ্য ধরে প্রতিটি কাজ নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেলেকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।’বেসিস সূত্রে জানা গেছে,বাংলাদেশ থেকে ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো ২৮ লাখ ডলারের সফটওয়্যার রফতানি হয়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০৩ সাল থেকে বাংলাদেশ সফটওয়্যার রফতানি শুরু করে।ওই বছর রফতানির পরিমাণ ছিল ৭২ লাখ ডলার। ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে রফতানির পরিমাণ ছিল ১ কোটি ২৬ লাখ ডলার। এরপর ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে ২ কোটি ৬০ লাখ ডলার ও ২০০৭-২০০৮ অর্থবছরে ২ কোটি ৪৮ লাখ ডলারের সফটওয়্যার রফতানি হয়।২০০৮-০৯ অর্থবছরে সফটওয়্যার রফতানি আয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৩ কোটি ২৯ লাখ ডলার। ২০০৯-১০ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। ২০১০-১১ অর্থবছরে এসে ২৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে সফটওয়্যাররফতানি দাঁড়ায় সাড়ে চারকোটি ডলারে।২০১২-১৩ অর্থবছরে সফটওয়্যার রফতানি থেকে আয় প্রথমবারের মতো একশ মিলিয়ন (১০ কোটি) ডলার অতিক্রম করে। ওই অর্থবছরে মোট রফতানির পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ১৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার।এই আয় বেড়ে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১২ কোটি ৪৭ লাখ ২০ হাজার ডলার ও ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে প্রায় ১৩ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এই খাত থেকে সর্বোচ্চ ৭শ মিলিয়ন ডলার রফতানি আয় হয়েছে।সূত্র আরও জানায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বেসিসসদস্য ১৮৫টি প্রতিষ্ঠান ৬শ মিলিয়ন ডলার আয় করে। এর সঙ্গে ফ্রিল্যান্সার, সফটওয়্যার ডেভেলপার ও কলসেন্টারগুলোর সেবা রফতানি আয় যোগ করলে তা ৭শ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।তবে ইপিবি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি রফতানি আয় ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আর পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সফটওয়্যার রফতানির হিসাব দিয়েছে ২৫ কোটি ৮০ লাখ ডলারের।

77 total views, 2 views today

mm
About bipul 5693 Articles
Love is Life

Be the first to comment

Leave a Reply